শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শরীয়তপুর বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতি।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে জেলার ২৪টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, চিকিৎসক ও কর্মচারীসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
এসময় বক্তারা বলেন, একজন চিকিৎসক দিন-রাত পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। তাই চিকিৎসকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে এবং এর ফলে সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
জেলা বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল বেপারী বলেন, কেউ অসুস্থ হলে একজন চিকিৎসক অতন্দ্র প্রহরীর মতো তাদের সেবা দিয়ে থাকে, আর সেই চিকিৎসকের উপর হামলা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই অনতিবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
সিটি আধুনিক হাসপাতালের পরিচালক দুলাল খান বলেন, সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের উপর হামলার প্রতিবাদে আজ জেলার ২৪ টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি। যদি দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনা হয় তবে আমরা পরবর্তীতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।
উল্লেখ্য, হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হৃদ্রোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। তবে রোগীর স্বজনেরা রাতে ঢাকায় নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে লাল মিয়া কাজী মারা যান। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্বজনেরা।
অভিযোগ রয়েছে, রাত ১টার দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল হাসপাতালের ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষির পাশাপাশি পাথর ও লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
এ সময় চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ ও দায়িত্বরত পাঁচ আনসার সদস্যকেও মারধর করা হয়। হামলার সময় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। হামলাকারীরা হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুরও চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম বলেন, রোগী হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমি তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু স্বজনেরা রাতে নিতে রাজি হয়নি। পরে জানতে পারি রোগী মারা গেছেন। এরপর হঠাৎ কয়েকজন লোক রুমে ঢুকে আমাকে মারধর শুরু করে। একজন পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অন্যরাও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।
অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ বলেন, স্যারকে ৭০-৮০ জন মিলে মারধর করছিল। আমরা থামাতে গেলে আমাদেরও কিল-ঘুষি মারা হয়। আমার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমি এই হামলার বিচার চাই।

আপনার মন্তব্য লিখুন